শিরোনাম
কাজী হুমায়ুন কবির | ০৭:০৭ পিএম, ২০২৬-০৬-২৭
চট্টগ্রামের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের যেন শেষ নাই। ৫ আগস্টের পর সংস্কার প্রক্রিয়ায় অনেক রদবদল হলেও এখনো সিডিএতে অফিসিয়াল অনিয়ম ও দূর্নীতি যেন থামছেইনা। বাকলিয়া এক্সেস রোডের মোড় সংলগ্ন এলাকায় ৪টি ভবনের নকশা অনুমোদনের বিষয়ে এমনই একটি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সিডিএ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে তদারকি ও মনিটরিংয়ের অভাব বা গাফলতি বা ম্যানেজ হওয়ার কারনে নকশা অনুমোদনের পূর্বেই ইমারত নির্মানের অনেক মালিকরা ভবন নির্মান শুরু করে দেন। আবার অনেকে এলইউসি ও বিশেষ প্রকল্পের আইন বা বিধিমালা না মেনেই কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নকশাপূর্ব ইমারত নির্মান শুরু করে। পুরো নগরজুড়ে এমন অসংখ্য অনিয়ম রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনুমোদিত নকশার ইমারতের মালিকরা সেট ব্যাক না রেখে, বা ইমারতের কলাম সেট ব্যাকের ভিতরে রেখে, বা বিশেষ প্রকল্পের বিধি মোতাবেক রাস্তা না রেখেই ইমারত নির্মান করেছেন। পরবর্তীতে এসব অনিয়মে জরিমানা করে দায় সাড়েন সিডিএর কর্মকর্তারা। অভিযোগ থাকে এসব অনিয়ম থেকে কাঙ্খিত টাকা আয় করেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বের কর্মকর্তারা। আর এইসব অনিয়মের ফলে নগরে বড় কোন দুর্যোগে ভবন হেলে পড়াসহ দূর্ঘটনার শিকার হয় নির্মিত বিল্ডিংগুলো।
জানা যায়, নগরে এমন কয়েকটি ফাইলের নকশা অনুমোদন দেয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডের মোড় সংলগ্ন এলাকায় এমনই একটি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। সিডিএ সুত্রে জানা যায়, ফাইল নং ৮৯৪/২৪, রেজাউল আজিম গং বা ইসলামী ব্যাংক গ্রুপ নামে খ্যাত গত ২ নভেম্বর ২০২৪ সালে একটি বারতলা ও পাশাপাশি ৩টি ১৫ তলা বিল্ডিং ভবন নির্মানের জন্য এল ইউসি অনুমোদন পান। সিডিএ সুত্রে আরো জানা যায়, নকশা অনুমোদনের পূর্বেই ভবন নির্মানের জন্য এলইউসি ও বিশেষ প্রকল্পের দেয়া ১৫ ফিট রাস্তার অংশ দখল করে রেজাউল আজিম গংরা ১টি ১৫ তলার গ্রেডবিম দিয়ে ১তলা পর্যন্ত নির্মান করে ফেলেন। উক্ত নির্মান কাজে কোন ধরনের সেটব্যাক বা বিধিমালা মানেন নাই। বিশেষ প্রকল্পের নির্দেশনা মোতাবেক ড্রয়িং তৈরী না করে নিজেদের ইচ্ছেমাফিক ড্রয়িং দিয়ে সিডিএকে চাপ দিয়ে নকশা অনুমোদনের চেষ্টা করেন।
জানা যায়, ইমারত নির্মান কমিটির সভায় প্লটের মালিক গংরা গত ৭ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখে ফাইলটির নকশা অনুমোদনের জন্য প্রথম তোলা হয়। এলইউসি ও বিশেষ প্রকল্পের বিধি না মানা ও নকশা অনুমোদনের আগে ইমারত নির্মান করায় ফাইলটি অনুমোদন হয়নি। পরবর্তীতে ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখের মিটিংয়ে ফাইলটি অনুমোদনের জন্য ইমারত নির্মান কমিটিতে পুনরায় উঠলে নকশা অনুমোদন হীন নির্মানকৃত বিল্ডিং এর বাড়তি অংশের কলামসহ ভাঙ্গার নির্দেশনা দিয়ে এল, ইউ, সি ও বিশেষ প্রকল্পের বিধি না মানায় ফাইলটির নকশা অনুমোদন করেননি। উল্টো সরেজমিনে যেয়ে কর্মকর্তারা জরিমানা করে আসেন।
জানা যায়, সেই ফাইলটি গত ১৮মে ২০২৬ ইং তারিখে নকশা অনুমোদনের জন্য ইমারত নির্মান কমিটির সভায় নতুন করে তুলেন অথোরাইজেশন কর্মকর্তা কাজী কাদের নেওয়াজ।। এই সভায় কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়ে সেটবেক ও কলাম না ভাঙ্গিয়ে গ্রেডভিম পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমোদন দেন ইমারত নির্মান কমিটির কর্মকর্তারা। দুবার প্রত্যাখ্যাত ফাইলটি হঠাৎ অনুমোদন কিভাবে পেল এনিয়ে প্রশ্ন উঠে সিডিএতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএসের প্রভাব দেখিয়ে এই ফাইলটি নতুন করে মিটিংয়ে উঠেছে শুনেছি এবং রহস্যজনকভাবে অনুমোদনও পেয়ে যায়। গ্রেডবীম পর্যন্ত নকশা অনুমোদনের শর্তে জানা যায়, ভবনগুলোর সাইট লে-আউট বিশেষ প্রকল্প ও ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুযায়ী হতে হবে। প্লিন্থ লেভেল পরবর্তী অনুমোদন করার সময় সামনের ৩ (তিন) তলা ভবন ভেঁঙ্গে আবেদন
করতে হবে। স্থিত ভবনটি As Build অনুযায়ী নকশা সংশোধন করতে হবে, প্রয়োজনে নূন্যতম সেট বেক সংরক্ষণের জন্য ব্যতিক্রমী অংশ অপসারণ করতে হবে। অগ্নি নিরাপত্তা বিবেচনায় বিশেষ প্রকল্প লে-আউট অনুযায়ী সাইটটির পশ্চিম পাশে মূল রাস্তা হতে শেষ পর্যন্ত সেট বেক হিসেবে ১৫ ফুট উন্মুক্ত জরুরী নির্গমণ পথ সংরক্ষণ করতে হবে। নির্মিত সেমিবেইজমেন্ট ভবনের জন্য ১০ গুণ ফি ও সর্বোচ্চ জরিমানা প্রদান করতে হবে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে সিডিএতে গুঞ্জন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলইউসি ও বিশেষ প্রকল্প অনুযায়ী রাস্তার অবস্হা ১৫ ফুট নাই। রাস্তার উপর ইমারত বা বিল্ডিংএর বাড়তি অংশ বা কলাম, সেটবেক না ভাঙ্গিয়ে, সঠিক নকশাহীন কিভাবে প্লিন্থ লেভেল বা গ্রেডবীম করার প্রাথমিক অনুমোদন পায়? ১০ তালার উপরে নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ১০ ফিট সেটব্যাক খালি রাখতে হয়, বর্তমান নির্মিত ভবনটির কলাম সেট ব্যাকের ভিতরে । তাহলে ভবনের বর্ধিত ছাদ ও কলাম না ভেঙে সেট ব্যাকের ভিতরে থাকলে ১০গুন ফি ও সর্বোচ্চ জরিমানা দিয়ে কিভাবে অনুমোদনের প্রস্তাব করলেন কর্মকর্তারা । জানা যায়, সেট ব্যাক ও ড্রাইভওয়ে নির্মিত ভবনটির জমা দেয়া প্রস্তাবিত নক্সার মধ্যে মিল নাই। নির্মিত ভবনটি বিশেষ প্রকল্প ও বাস্তবের সাথে মিল নাই।গত দুই মিটিংএ ভবনের সেটব্যাক রাখা ও কলাম ভাঙ্গা ও বিশেষ প্রকল্পের নির্দেশ না মানা সত্বেও এসব সরেজমিনে দেখেও কিভাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিল কর্মকর্তারা এসব এখন গুঞ্জনের ডালপালা গজাচ্ছে। প্রশ্ন উঠে আসে ৩য়বারে নকশার প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়ার পর ইসলামী ব্যাংক গ্রুপের রেজাউল আজিম গংরা কি মানবে সিডিএর এসব শর্ত, নাকি শর্ত মানবে বলে স্ট্যাম্প জমা দিয়ে ফাইনাল নকশা অনুমোদন নিয়ে নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে ইচ্ছামতো ভবনগুলো নির্মান করে নগর বাসিন্দাদের ঝুকিতে ফেলবে এমন গুঞ্জনও চলছে। সিডিএ কর্মকর্তারা কি ফাইনাল অনুমোদন দেয়ার কৌশলী রাস্তায় এগুচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেই জায়গার সামনেই ফাইল নং ৩২১/২৩ ইসলামি ব্যাংক গ্রুপের কমার্শিয়াল এলাকায় আবাসিক ভবন হিসাবে আরেকটি বহু তলা বিল্ডিং নির্মিত হচ্ছে। জানা যায়, এই নির্মিত ভবনেও সেটব্যাক রাখা হয়নি, ছাদ বাড়িয়েছেন মনমতো। কলামও সেট ব্যাকের ভিতরে নির্মাণ করেছেন। সেটবেকের অংশ ভাঙ্গার কথা থাকলেও তারা না ভেঙ্গেই ইমারত নির্মান করে যাচ্ছেন। বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় আরো কয়েকটি ইমারত নির্মানে তাদের এমন অনেক অনিয়মের অভিযোগ শুনা যায়।
এ বিষয়ে ইমারত পরিদর্শক আবদুর রশিদকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা ইমারত পরিদর্শনে গিয়েছি। নকশা অনুমোদনের আগেই একটি ভবন নির্মাণ করেছে। বিশেষ প্রকল্পের বিধি না মানলে নকশা অনুমোদন দেওয়া যাবে না মর্মে আমি ফাইলে নোট দিয়েছি। কিভাবে এই ফাইল প্রাথমিক অনুমোদন পেল তা আমি বলতে পারবো না। সিনিয়রদের বক্তব্য নিলে জানতে পারবেন।
এইসব অনিয়ম বিষয়ে অথোরাইজ অফিসার-১এর কাজী কাদের নেওয়াজকে প্রশ্ন হলে তিনি বলেন, গ্রেড বীম পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে নকশা প্রাথমিক ভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। শর্ত পূরন করে আসতে পারলে ফাইনাল দেয়া হবে। পুর্বের দুই মিটিংএ কেন প্রাথমিক অনুমতি দিলেন না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটাতো উপরের বিষয়। আমার কিছু করার ছিলনা। আমি মিটিংএ দিয়েছি, উপরের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দিলে আমি কি করবো।
এ বিষয়ে চীফ ইন্জিনিয়ার আনোয়ারুল আহমেদ নজরুল বলেন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের ...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : চট্টগ্রামের কিশোরী সুপর্বা সুধা বিশ্বাস। ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ঝুলিতে ইতোমধ্...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : বাংলাদেশ এডিটরস্ ফোরাম গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রি...বিস্তারিত
আমাদের বাংলা ডেস্ক : : নোবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ও শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ ইসলাম...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, তা জানতে ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর বিচার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এগোচ্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik Amader Bangla | Developed By Muktodhara Technology Limited